BREAKING NEWS
VIP Contest

রবিবার

ফরেক্স কনটেস্টে ভালো করার কিছু কার্যকরী টিপস - Forex Contest

ফরেক্স ব্রোকারগুলোতে প্রায় সারা বছর ধরেই ফরেক্স ট্রেডিং কনটেস্ট চলে। ফ্রিতে অংশ নিয়ে অনেকেই জিতে নিতে পারেন ভালো অ্যামাউন্টের কিছু পুরস্কার। HotForex এর নতুন শুরু হওয়া মাসিক ৫০,০০০ ডলারের কনটেস্টের গত রাউন্ডে একজন বাংলাদেশী ৭ম স্থানে থেকে জিতে নিয়েছেন $১০০০ ডলার ক্যাশ প্রাইজ। এছাড়া সেরা ৯০ জনের মধ্যে থেকে আরও কয়েকজন বাংলাদেশী কিছু প্রাইজ জিতেছেন। এছাড়া আরও অনেক ব্রোকারেই নিয়মিত ফরেক্স কনটেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। Hotforex এও আরও ৮টি ৫০,০০০ ডলারের কনটেস্ট অনুষ্ঠিত হবে সামনের ৮ মাসে। কিন্তু এই কনটেস্টগুলোতে অনেক মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে জেতা কি খুব কঠিন? আদৌ সম্ভব? হ্যাঁ, কিছু বিষয় অনুসরন করলে সহজেই আপনি অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে পারবেন। ফরেক্স ট্রেডিং যখন আমি শুরু করি তখন আমার নিজের বড় ধরনের ডিপোজিট করার সামর্থ্য ছিল না। তাই বিভিন্ন কনটেস্টে অংশ নিয়ে কিছু কনটেস্টে জিতে ট্রেড করার মত ভাল পরিমাণ অ্যামাউন্ট জোগাড় করে ফেলতে পেরেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কিভাবে ফরেক্স ট্রেডিং কনটেস্টগুলোতে আপনি নিজেকে সহজে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন তা নিয়েই এই লেখা।
forex-contest-tips.png

টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জঃ
ফরেক্স কনটেস্টগুলো সাধারনত ১ মাস ব্যাপী হয়ে থাকে। তার অর্থ আপনি যদি যে কোন স্থানই জিততে চান না কেন, সর্বপ্রথম আপনার টার্গেট হতে হবে আপনি যেভাবেই হোক ১ মাস কনটেস্টে টিকে থাকবেন। প্রথমদিকে অনেক প্রফিট করে যদি কনটেস্টের মাঝপথে অ্যাকাউন্টই জিরো করে ফেলেন, তবে কোন লাভ নেই। কনটেস্টে সবসময়ই ১ম, ২য়, ৩য় পজিশনে থাকতে হবে না। আপনি সম্মানজনক ব্যালেন্স নিয়ে তাদের আশে-পাশে থাকুন। মনে রাখবেন ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে। শেষের দিকে আপনার অনেক সুযোগ আসবে বেশি ব্যালেন্সধারীদের টপকে যাওয়ার। অনেকে নিজ থেকেই ফতুর হয়ে যাবে। তখন আপনি এমনিতেই কিছুটা এগিয়ে যাবেন। 

VIP Contest

প্রতিযোগীর সংখ্যা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেইঃ
যেহুতু কনটেস্টগুলো ফ্রি, তাই প্রচুর মানুষ সেগুলোতে রেজিস্ট্রেশন করে থাকে। যেমন Hotforex এর গত কনটেস্টে ১১,০০০+ ট্রেডার রেজিস্ট্রেশন করেছিল। কিন্তু সত্যি বলতে রেজিস্ট্রেশন করেও বেশিরভাগ ট্রেডারই পরে আর ট্রেড করে না। আবার অনেকেই ২-৩ দিন ট্রেড করে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। বেশিরভাগ ট্রেডার প্রথম ১ সপ্তাহের মধ্যে অ্যাকাউন্ট জিরো করে ফেলে। তাহলে দেখা যায় যে আপনি আসলে মাত্র ১০% এর ও কম প্রতিযোগীর সাথে প্রতিযোগিতা করছেন। তাই ১১,০০০ জনের মধ্যে সেরা হবার চেয়ে ২০০ জনের মধ্যে সেরা হবার চেষ্টা করুন। ভালো ভাবে ট্রেড করলে খুব সহজেই সামনের সারিতে চলে আসা যাবে।

অবস্থা বুঝে ট্রেড থেকে বিরত থাকুনঃ
৩০ দিন কনটেস্ট চললেই আপনার যে ৩০ দিনই ট্রেড করতে হবে এমন কোন কথা নেই। মোটামুটি ভালো পরিমাণ লাভ হয়ে গেলে অ্যাগ্রেসিভ ভাবে ট্রেড করে অ্যাকাউন্ট জিরো করে ফেলবেন না। ঝুঁকিপূর্ণ নিউজ টাইমে ট্রেড থেকে বিরত থাকুন। এ সময়ে আপনার অনেক প্রতিযোগী যেমন এগিয়ে যাবে, অনেক প্রতিযোগী দেখবেন অনেক পিছিয়েও যাবে। আপনি ভালো পজিশনে চলে গেলে অপেক্ষা করুন। সবসময় প্রথম হবার চেষ্টা করবেন না। রিয়েলস্টিক স্থান অর্জন করার চেষ্টা করুন। দেখা গেল যে প্রথম পজিশনে আছে তার ব্যালেন্স ১০ লাখ, ২য় যে আছে তার ব্যালেন্স ৩ লাখ। আপনি ৫-৬ লাখের মধ্যে আগে নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ঝুঁকি নিয়ে ১ম জনকে টপকাতে গিয়ে যেন উল্টো আরও পিছিয়ে না পড়েন। কখন আপনি ট্রেড করবেন, আর কখন ট্রেড করবেন না সেটা আগে বুঝতে হবে। আবার খুব স্লো ট্রেডও করবেন না। পূর্বের কনটেস্টের হিস্টোরি দেখে ধারনা নিতে পারেন যে পুরস্কার পেতে হলে ৩০ দিনের মাথায় ব্যালেন্স কি পরিমাণ থাকতে হতে পারে। 

কনটেস্টের শেষদিনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিনঃ 
বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে কনটেস্টের শেষ দিনে। একটি কনটেস্টে শেষের দিন আমি ২য় পজিশনে ছিলাম। কনটেস্ট শেষ হতে আর কয়েক ঘন্টা বাকি ছিল। যে ১ম পজিশনে ছিল তার ব্যালেন্স ছিল আমার থেকে অনেক বেশি। শেষের দিকে আমি ভাবলাম তাকে টপকানোর চেষ্টা করে দেখি। কিন্তু মার্কেট উল্টো দিকে যাওয়ায় আমার প্রচুর পরিমাণ লস হয়ে যায় এবং শেষে আমি ঐ কনটেস্টে কোন পুরস্কারই পাইনি। কনটেস্টের শেষ দিন অনেক আবেগ কাজ করবে, ভয় কাজ করবে। মনে হবে আরেকটু এগিয়ে যেতে পারি কিনা। কেউ আমাকে টপকে যাবে না তো? ১ বা ২টি স্থান হারানোর ভয়ে যেন পুরস্কারের তালিকা থেকেই হারিয়ে না যান যে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখবেন একেবারেই কোন প্রাইজ না পাওয়ার থেকে, অন্তত একটি প্রাইজ পাওয়া ভাল। শেষদিন নিজের ভুলে বেশিরভাগ মানুষ হেরে যায়। 

VIP Contest

কনটেস্টে ভালো করার এগুলোই বলা যায় মূলমন্ত্র। নিয়মিত ট্রেড করে কনটেস্টের শেষ পর্যন্ত ভালো ব্যালেন্স নিয়ে টিকে থাকতে পারলেই বলা যায় প্রাইজ আপনার জন্য নিশ্চিত। অনেক সম্ভাবনাময় ট্রেডার আছেন যারা ডেমোতে ভালো ট্রেড করেন, রিয়েলে ট্রেডের টাকা নেই, বা রিয়েলে কম ব্যালেন্স নিয়ে ট্রেড করছেন, কিংবা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ট্রেড করতে ভালবাসেন। তারা তাদের ফ্রি টাইমে কনটেস্টগুলোতে অংশ নিলে নিজেরাই উপকৃত হবেন। কারণ মার্কেটের সাথে যত বেশি সময় কাটাবেন, মার্কেট আপনার জন্য তত সহজ হবে। সকলের জন্য শুভকামনা রইলো। 

Zero Spread Account

কখন ট্রেড করবেন - ফরেক্স মার্কেট সেশন - Forex Market

একদিন আমার এক ফ্রেন্ড ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো মাঝে মাঝে দেখি মার্কেটে প্রাইস অনেক বাড়ে-কমে। আবার অনেক সময় দেখি কোনো মুভমেন্টই হয়না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কম্পিউটারের সামনে এত সময় বসে থাকতে বোরিং লাগে। যদি জানতাম কখন কখন বড় মুভমেন্ট হবে, তাহলে শুধু তখনই ট্রেড করতাম, আর বাকি সময় অন্য কাজ করা যেত কিংবা মুভি দেখা যেত।
forex-market-trade.png

আমি বললাম ফরেক্স মার্কেট সপ্তাহে ৫ দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। মার্কেট সবসময় ওপেন থাকে তার মানে এই নয় যে আমাদের সবসময় ট্রেড করা উচিত। কারন মার্কেট সবসময় সক্রিয় থাকে না। অনেক সময় দেখা যায় মার্কেটে কোন নড়াচড়া নেই অর্থাৎ ভোলাটিলিটি নেই। আমরা ফরেক্সে প্রফিট করতে পারি যখন প্রাইস বাড়ে কিংবা কমে। কিন্তু যদি মার্কেটে তেমন একটা মুভমেন্টই না হয়, তাহলে প্রফিট হবে কিভাবে?

সে বলল, তাহলে আমরা ট্রেড করবো টা কখন? এরকম হবার কারন টা কি?

আমি তাকে বললাম যে, ফরেক্স মার্কেটে ২৪ ঘণ্টাকে আমরা প্রধানত ৪টা ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলো হল সিডনী সেশন, টকিয়ো সেশন, লন্ডন সেশন এবং নিউইয়র্ক সেশন। আমার কাছে নিউইয়র্ক সেশনটাই সবচেয়ে প্রিয়।

আমার ফ্রেন্ড এর উত্তরে আমাকে বলল, এগুলো তো শহরের নাম। আগে অনেককে এসবের নাম বলতে শুনেছি। অনেকেই বলে একটু পরেই নিউইয়র্ক সেশন শুরু হয়ে যাবে। আমি তো এসবের কিছুই বুঝি না।

আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম এই চারটা সেশন যখন শুরু হয়, তখন মার্কেটে অনেক ভোলাটিলিটি শুরু হয়। এর কারন হল একটি সেশন ওপেন হলেই সেই অঞ্চলে অনেক ব্যবসা-বানিজ্য, লেন-দেন ইত্যাদি শুরু হয়। অর্থনীতি সম্পর্কে বড় বড় নিউজ-সিদ্ধান্ত ঐ সময়েই নেয়া হয় অধিকাংশ সময়ে। তাই নতুন সেশন শুরু হলেই মার্কেটে বড়-সড় মুভমেন্ট/নড়াচড়া শুরু হয়ে যায়। নিচের চার্টটি ওকে দেখিয়ে বললাম যে কোন সেশন কখন শুরু এবং শেষ হয়।
forex-market-trade-session.png

ত্রিভুজ এবার বলল, গ্রীষ্মকাল (summer) আর শীতকালে (winter) ভিন্ন সময়ে সেশন ওপেন হয় কেন? আমি তাকে বললাম DST (Day-Light Saving Time) এর কথা মনে আছে যেটা বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে চালু হয়েছিল? ত্রিভুজ বলল, হ্যা। তখন তো আমাদের সময় আমরা ১ ঘণ্টা এগিয়ে দিয়েছিলাম। এবার আমি বললাম, পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলোও তাদের কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকাল এবং শীতকালে ১ ঘণ্টা সময় পরিবর্তন করে। আর সে কারনেই আমাদের এখানেও বাংলাদেশ সময় অনুসারে সেশনগুলো ওপেন-ক্লোজের সময় পরিবর্তন হয়। এখানে BST দিয়ে Bangladesh Standard Time বোঝানো হয়েছে।

এবার ত্রিভুজ আমাকে বলল, যেকোনো সেশন ওপেন হলে যেহুতু মার্কেটে ভোলাটিলিটি বেড়ে যায়, ২টা সেশন একসাথে ওপেন থাকলে নিশ্চয়ই ভোলাটিলিটি আরও বেশি থাকে, মানে মুভমেন্ট আরও বেশি হয়?

এবার আমি বুঝলাম যে আমার বন্ধু আস্তে আস্তে ব্যাপারটা বুঝতে পারছে। আমি তাকে বললাম হ্যা, ব্যাপারটা ঠিক এইরকম। গ্রীষ্মকালে দুপুর ১:০০ থেকে দুপুর ৩:০০ পর্যন্ত টকিয়ো ও লন্ডন সেশন ওভারল্যাপ করে এবং সন্ধ্যা ৬:০০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত লন্ডন ও নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ করে। তাই এই সময়ে মুভমেন্টও থাকে বেশি। ট্রেড করার জন্য মোটামুটি আদর্শ সময়।

forex-market-avarage-pips.png

এবার আমি ত্রিভুজকে এই চার্টটি দেখিয়ে বললাম যে কোন সেশনে কোন পেয়ারের এভারেজ মুভমেন্ট কত পিপস। দেখা যায় লন্ডন সেশনেই সবচেয়ে বেশি মুভমেন্ট দেখা যায়। আর যেহুতু নিউইয়র্ক সেশন লন্ডন সেশনের সাথে ৪ ঘণ্টা ওভারল্যাপ করে, সেহুতু লন্ডন এবং নিউইয়র্ক এই ২টি সেশন ট্রেড করার জন্য আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

এবার ত্রিভুজ আমাকে বলল ফরেক্স সেশনগুলো সম্পর্কে তাকে একটু বিস্তারিত ধারনা দিতে। ভাবলাম টকিয়ো সেশন দিয়েই তাহলে শুরু করা যাক।

টকিয়ো সেশন
বাংলাদেশ সময় ভোর ৬:০০ টায় টকিয়ো সেশন শুরু হয় এবং দুপুর ৩:০০ টায় টকিয়ো সেশন শেষ হয়। টকিয়ো সেশন এশিয়ান সেশন নামেও পরিচিত, কারন টকিয়ো হল এশিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী। আর জাপান হল পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম ফরেক্স ট্রেডিং সেন্টার। জাপানিজ ইয়েন হল পৃথিবীর ৩য় সর্বাধিক ট্রেডকৃত কারেন্সি। সব ফরেক্স লেনদেনের ১৬.৫০% লেনদেন হয় ইয়েনের। এবং সকল ফরেক্স লেনদেনের ২১% হয় এই টকিয়ো সেশনে।

টকিয়ো সেশনের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আমি ওকে বলেছিলাম। সেগুলো হলঃ
  • এই সেশনের যে শুধু জাপানের অবদান থাকে তাই নয়, হংকং, সিঙ্গাপুর, সিডনী ইত্যাদি অঞ্ছলেও অনেক অর্থনৈতিক লেনদেন হয় যা এই সেশনে প্রভাব ফেলে।
  • জাপান মূলত রপ্তানি নির্ভর দেশ। চায়নারও এখানে ভালো অবদান রয়েছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংক এবং এক্সপোর্টাররা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
  • মাঝে মাঝে মার্কেটে ভোলাটিলিটি এতও কমে যায় যে ট্রেডারদেরকে ট্রেড করার জন্য মাছ ধরার বরশি নিয়ে অপেক্ষা করার মত বসে থাকতে হয়।
  • মূলত এশিয়ান পেয়ারগুলোতে অন্য পেয়ারগুলোর তুলনায় বেশি মুভমেন্ট দেখা যায়। যেমন eur/usd, gbp/usd এর তুলনায় aud/usd, nzd/usd তে মুভমেন্ট বেশি হয়।
  • এই কম ভোলাটিলিটির সময় বেশিরভাগ পেয়ার একটি রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, যা কিনা দিনের পরবর্তী সময়ে ব্রেকআউট ট্রেডের সুযোগ সৃষ্টি করে।
  • এই সেশনের শুরুতেই সাধারনত মুভমেন্ট বেশি হয়, কারন তখনই অর্থনৈতিক নিউজগুলো বেশি পাবলিশ হয়।
  • টকিয়ো সেশনের মুভমেন্ট দেখেই ট্রেডাররা সাধারনত পরবর্তী সেশনে ট্রেড করার স্ট্রাটেজি ঠিক করে।
টকিয়ো সেশনে যেসব পেয়ার ট্রেড করা উচিতঃ

এবার ত্রিভুজ বলল, অনেক কিছু জানা গেল। কিন্তু টকিয়ো সেশনে কোন কোন পেয়ার গুলো ট্রেড করার জন্য ভালো হবে? এই সেশনে তো অন্যান্য পেয়ারগুলো থেকে এশিয়ান পেয়ারগুলোতে মুভমেন্ট বেশি হয়। তাহলে আমাদের সেইসব পেয়ার ট্রেড করা উচিত?

টকিয়ো সেশনে অস্ট্রেলিয়া, নিউজল্যান্ড, জাপানের গুরুত্বপূর্ণ নিউজ পাবলিশ হয়। এরফলে নিউজ ট্রেড করার একটু ভালো সুযোগ পাওয়া যায়। JPY পেয়ারগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যায়। চায়না কিন্তু আরেকটি অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার। তাই যখনই চায়না থেকে গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশিত হয়, তা ফরেক্স মার্কেটে ভালো ভোলাটিলিটি সৃষ্টি করে। টকিয়ো সেশনে JPY এবং AUD পেয়ারে ভালো মুভমেন্ট দেখা যায়। তাই এই পেয়ারগুলো ট্রেড করার জন্য উত্তম।

লন্ডন সেশন
যখন এশিয়ান মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তার কিছুক্ষন পরই লন্ডন সেশন শুরু হয়। লন্ডন সেশন ইউরোপিয়ান সেশন নামেও পরিচিত। ইউরোপে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মার্কেট রয়েছে, যদিও ট্রেডারদের চোখ বেশিরভাগ সময় থাকে লন্ডনের দিকে। গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১:০০ (শীতকালে দুপুর ২:০০) - টায় লন্ডন সেশন শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালে রাত ১০:০০ (শীতকালে রাত ১১:০০) - টায় লন্ডন সেশন শেষ হয়।

ঐতিহাসিকভাবেই লন্ডন ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতি মিনিটেই হাজার হাজার ব্যবসায়ী এখানে লেনদেন করে। সর্বমোট লেনদেনের ৩০% হয়য় শুধুমাত্র এই লন্ডন সেশনেই।

টকিয়ো সেশনের মত লন্ডন সেশনেরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলঃ
  • লন্ডন সেশন ২টি গুরুত্বপূর্ণ সেশনের সাথে (টকিয়ো এবং নিউইয়র্ক) ওভারল্যাপ করে। অসংখ্য ফরেক্স লেনদেন এই সেশনে ঘটে। তাই দেখা যায় এই সময়ে মার্কেটে লিকুইডিটিও থাকে বেশি এবং পেয়ারগুলোতে স্প্রেডও থাকে তুলনামুলক ভাবে কম।
  • অসংখ্য লেনদেন এবং ট্রেড হবার কারনে লন্ডন সেশন হল সবচেয়ে বেশি ভোলাটাইল সেশন
  • দেখা যায় অধিকাংশ ট্রেন্ড লন্ডন সেশনে শুরু হয়য় এবং নিউইয়র্ক সেশনের শুরু পর্যন্ত চলতে থাকে।
  • এই সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ভোলাটিলিটি কিছুটা কমে যায়, কারন ট্রেডাররা নিউইয়র্ক সেশন শুরুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
  • অনেকসময় দেখা যায় লন্ডন সেশনের শেষের দিকে ট্রেন্ড রিভার্স হয়ে যায়। কারন ইউরোপিয়ান ট্রেডাররা দিনশেষের আগে তাদের ট্রেড প্রফিতে ক্লোজ করে দিতে চায়।
লন্ডন সেশনে যেসব পেয়ার ট্রেড করা উচিতঃ

এবার ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো, নিশ্চয়ই লন্ডন সেশনে ইউরো আর পাউন্ডের পেয়ার গুলো ট্রেড করার জন্য ভাল? আমি তাকে উত্তর দিলাম যেহুতু লন্ডন সেশনে অনেক বেশি ট্রেড হয়য়, তাই দেখা যায় এই সেশনে অনেক বেশি লিকুইডিটি থাকার কারনে প্রায় সব পেয়ারেই ট্রেড করা যায়। অবশ্যই মেজর পেয়ারগুলো ট্রেড করা জন্য ভালো যেমন - EUR/USD, GBP/USD, USD/JPY, USD/CHF, কারনে সেগুলোতে স্প্রেড কম থাকে। এবং এই পেয়ারগুলো দেখা ইউরোপিয়ান সেশনে যে নিউজগুলো আসে সেগুলো দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়। এছাড়া ইয়েন ক্রস পেয়ারগুলোও ট্রেড করা যায় বিশেষ করে EUR/JPY এবং GBP/JPY, কারন এই পেয়ারগুলো তখন কিছুটা ভোলাটাইল থাকে।

নিউইয়র্ক সেশন
লন্ডন সেশন চলতে চলতে যখন মার্কেটের ভোলাটিলিটি কিছুটা স্থির হয়ে আসে, তখন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬:০০ (শীতকালে সন্ধ্যা ৭:০০) - টায় নিউইয়র্ক সেশন শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালে রাত ৩:০০ (শীতকালে রাত ৪:০০) - টায় নিউইয়র্ক সেশন শেষ হয়। এশিয়া এবং ইউরোপের মত, আমেরিকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেক্স মার্কেট। সব ট্রেডারদের দৃষ্টি থাকে নিউইয়র্ক সেশনের দিকে। নিউইয়র্ক সেশন আমেরিকান সেশন নামেও পরিচিত।

নিউইয়র্ক সেশনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলঃ
  • যেহুতু এই সেশনটি লন্ডন সেশনের সাথে ওভারল্যাপ করে, তাই এই সেশনের শুরুতে মার্কেটে লিকুইডিটি বেশি থাকে।
  • অধিকাংশ অর্থনৈতিক রিপোর্ট এবং নিউজ এই সময়ে প্রকাশ হয়। প্রায় ৮৫% ট্রেডগুলোই ডলার এর সাথে কোনো না কোন ভাবে সম্পর্কিত। তাই যখন কোন আমেরিকান ইকনোমিক ডাটা রিলিজ হয়, তা মার্কেটকে মুভ করাতে যথেষ্ট ভুমিকা পালন করতে সক্ষম।
  • লন্ডন সেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর, নিউইয়র্ক সেশনের শেষের দিকে মার্কেটে ভলাটিলিটি এবং লিকুইডিটি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মুভমেন্ট প্রায় থাকেনা বললেই চলে।
  • শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাতের দিকে মার্কেট প্রায় শান্ত হয়ে যায়। কারন পরেরদিন মার্কেট অফ থাকার কারনে জন্য মার্কেটে ভোলাটিলিটি অনেক কম থাকে।
  • শুক্রবারে নিউইয়র্ক সেশনের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সময় প্রাইস রিভারস করতে দেখা যায়। কারন অনেক ট্রেডাররা মার্কেট হলিডের সময় কোন নিউজের প্রভাব উপেক্ষা করার জন্য সপ্তাহ শেষ হবার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে দেয়।
নিউইয়র্ক সেশনে যেসব পেয়ার ট্রেড করা উচিতঃ

ত্রিভুজ আমাকে বলল, যেহুতু এই সেশনে মার্কেটে ভোলাটিলিটি অনেক বেশি থাকে, তাই নিশ্চয়ই প্রায় সব পেয়ারই ট্রেড করা যায়? আমি বুঝতে পারলাম ত্রিভুজ ফরেক্স মার্কেটের ট্রেডিং সেশনগুলো সম্পর্কে ভালো ধারনা অর্জন করে ফেলেছে। আমি তাকে বললাম ঠিক তাই। এই সেশনে প্রায় সব পেয়ারই ট্রেড করা যায়, কারন ভালো মুভমেন্ট থাকে। আর এই সেশনে ডলারের বিভিন্ন ফান্ডামেন্টাল ডাটা রিলিজ হওয়ার কারনে দেখা যায় সবাই নিউজগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকে, কারন সবাই ডলার ভালবাসে। আর এই নিউজগুলো খারাপ আসুক কিংবা প্রত্যাশিত আসুক, ডলারের লাফালাফির কারনে তা মার্কেটকে নাটকীয়ভাবে প্রচণ্ড নাড়া দিতে পারে।

সেশনের ওপর সেশন - সেশন ওভারল্যাপঃ
ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো দিনের মধ্যে ট্রেড করার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি? এবার আমি ত্রিভুজকে জিজ্ঞেস করলাম, বলতো টেলিভিশনে সবচেয়ে ভালো প্রোগ্রামগুলো কখন দেখায়? ত্রিভুজ উত্তর দিল- "ফ্যামিলি টাইম". আমি বললাম ঠিক তাই। কিন্তু কারণটা কি? ত্রিভুজ আমাকে উত্তর দিল কারন সেই সময়ে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে টেলিভিশন দেখে, তাই ভালো প্রোগ্রামগুলো প্রচার করা হয়। আমি তাকে বললাম ঠিক তাই। ফরেক্স মার্কেটের ক্ষেত্রেও একই রকম। মার্কেটে যখন ২টি সেশন ওভারল্যাপ করে, তখন মার্কেটে মুভমেন্টও বেশি হয়, তাই ট্রেড করার সুযোগও থাকে বেশি।

ফরেক্স মার্কেটে ২টি প্রধান সেশন ওভার ল্যাপ হলঃ
  • টকিয়ো-লন্ডন সেশন ওভারল্যাপ
  • লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ
টকিয়ো-লন্ডন সেশন ওভারল্যাপঃ

টকিয়ো সেশনে মুভমেন্ট অন্য সেশনগুলোর তুলনায় খুব একটা বেশি হয়না। আর টকিয়ো-লন্ডন সেশন যখন ওভারল্যাপ করে, তখন টকিয়ো সময় অনেকটা বিকেল তাই মুভমেন্ট কমই থাকে। ট্রেড করার জন্য এই সময়টা কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। অনেক নতুন ট্রেন্ড তৈরি হয় এই সময়ে, কিন্তু অনেক ট্রেডাররাই ট্রেন্ড কনফারমেশনের জন্য লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশনের জন্য অপেক্ষা করে।


লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপঃ
এই সেশন ওভারল্যাপ হল ট্রেড করার সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময় ট্রেডাররা সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে মার্কেটের দিকে মনোনিবেশ করে। এই সেশন ওভারল্যাপ হল দিনের সবচেয়ে ব্যাস্ত সময়, কারন ২টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ট্রেডিং সেন্টার লন্ডন এবং নিউইয়র্ক এই সময় ওপেন থাকে।

এই সময় মার্কেটে অনেক বড় বড় মুভমেন্ট দেখা যায় বিশেষ করে যখন আমেরিকা এবং কানাডা থেকে নিউজ-রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হয়। ইউরোপ থেকে দেরিতে প্রকাশ হওয়া নিউজগুলোও ভালো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যদি লন্ডন সেশনে কোন ট্রেন্ড তৈরি হয়, তবে বেশিরভাগ সময় নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপের সময় তা কন্টিনিউ করতে দেখি। কারন আমেরিকান ট্রেডাররা সেদিন আগে কি হয়েছিল তা জেনে ট্রেড করতে ঝাপিয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ সময় পূর্বের ট্রেন্ড অনুসরন করে। এই সেশন ওভারল্যাপ শেষ হবার পর পরই দেখা যায় মার্কেটে মুভমেন্ট অনেক কমে যায়, কারন অনেক ইউরোপিয়ান ট্রেডাররা দিনশেষে তাদের ট্রেড ক্লোজ করে দেয়।


ট্রেড করার জন্য সপ্তাহের সেরা দিনগুলোঃ
ত্রিভুজ আমাকে বলল, সবশেষে যা বোঝা গেল, তা হল লন্ডন সেশনই হল ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে ব্যাস্ততম সেশন। আর তারসাথে যদি নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ করে, তবে তো কথাই নেই। কিন্তু ট্রেড করার জন্য কি বিশেষ কোন ভালো দিন রয়েছে? আমি তাকে বললাম হ্যাঁ। কিছু বিশেষ দিন রয়েছে যে দিনগুলোতে মার্কেট অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু বেশীই মুভ করে।

সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে গড়ে কোন পিপস মুভমেন্ট হয় সেটা আমি ত্রিভুজকে এই চার্টের মাধ্যমে দেখাইঃ
forex-market-secret.png

ওপরের চার্ট থেকে দেখা যায় যে, সপ্তাহের মাঝের দিনগুলোতেই মুভমেন্ট বেশী হয়। সপ্তাহের এই দিনগুলোতেই সবচেয়ে বেশী পিপস মুভমেন্ট দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায় সোমবার অনেক জায়গায় ব্যাংক হলিডে থাকে, নিউজ কম রিলিজ হয় কিংবা ট্রেডাররা নতুন সপ্তাহে কোনদিকে ট্রেন্ড মোড় নিবে তা ঠিক করতে না পেরে ট্রেড কম করে। ওপরদিকে শুক্রবার অনেকেই বিকেলের পর ট্রেড করে না পরেরদিন মার্কেট হলিডে থাকায়। সেই অর্থে শুক্রবার মার্কেট বলা যায় অর্ধেক সময় অ্যাকটিভ থাকে।

সময়কে সঠিকভাবে ম্যানেজ করাঃ
আমি এবার ত্রিভুজকে বললাম নিশ্চয়ই এবার ফরেক্স সেশনগুলো সম্পর্কে ধারনা পরিস্কার হয়েছে? ত্রিভুজ উত্তর দিল, হ্যাঁ। এখন থেকে আমি সব ফরেক্স সেশন এবং সেশন ওভারল্যাপের দিকে নজর রাখব। আমি তাকে বললাম আমরা তো ভ্যাম্পায়ার নই যে সব সেশনগুলোতেই ট্রেড করতে পারবো। আর যদি পারি, কেনই বা করবো? ফরেক্স মার্কেট ২৪ ঘন্টা ওপেন থাকে তার মানে এই নয় যে ২৪ ঘণ্টাই ভালো মুভমেন্ট থাকে। আর যদি থাকেই, কেনই বা আমরা সবসময় ট্রেড করবো? আমাদের শুধু ভালো ট্রেডের সুযোগ পেলেই ট্রেড করা উচিত।

আমাদের সুস্থভাবে জীবন-যাপনের জন্য বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। সবসময় ট্রেড করার জন্য কম্পিউটারের সামনে না বসে মাঝে মাঝে সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে এবং খেতে যাওয়া উচিত। ত্রিভুজ আমাকে বলেছে সে ফরেক্স থেকে প্রথম প্রফিট যেদিন করবে, সেদিন আমাকে ভালো রেস্টুরেন্টে ব্যুফে খাওয়াবে। আর আপনারাও যদি ত্রিভুজকে ফরেক্স সম্পর্কে বোঝানোর ফাকে কিছু শিখে ফেলতে পারেন এবং তা দিয়ে প্রফিট করতে পারেন, তবে আমাকে ভুলে যাবেননা কিন্তু! 

সোমবার

কমোডিটি ট্রেডিং - ব্রোকার যেভাবে আমাদের কমোডিটি কেনাবেচা করতে সহায়তা করে

আপনি অনলাইনে কমোডিটি কিনতে চাইলে আপনাকে কোন একটি ব্রোকারের সহায়তা নিতে হবে যেটি কোন একটি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সদস্য। এরকম অসংখ্য ব্রোকার রয়েছে। আজকাল ফরেক্স ব্রোকাররাও কমোডিটি ট্রেড করার সুবিধা দেয়, কেননা ট্রেডাররা স্মার্ট হচ্ছে। তারা এখন আর "All eggs in one basket" নীতিতে বিশ্বাসী না। যেহেতু, হাতের নাগালেই ট্রেড করার মত বিভিন্ন অপশন রয়েছে, তাই কোন ট্রেড ওপেন করার আগে তারা দেখতে চান, এই মুহূর্তে কোনটি ট্রেড করলে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কোন কারেন্সি, নাকি কোন কমোডিটি? প্রশ্ন হচ্ছে, ফরেক্স ব্রোকাররা কিভাবে কমোডিটি কেনাবেচা করতে সহায়তা করে?
 
যেসব ফরেক্স ব্রোকাররা কমোডিটি ট্রেড করার সুবিধা  দেয়, তারা সাধারণত কোন না কোন কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সদস্য। এক্ষেত্রে, ব্রোকারের কাজ হল কমোডিটি বায়ার ও সেলারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করা। ব্রোকার চাইলে নিজেও কমোডিটি বাই সেল করতে পারে। 
 
এখন, আপনি যখন কোন কমোডিটি বাই করেন, যেমন ধরুন, স্বর্ণ কিনলেন, তখন আপনি তা ব্রোকার থেকে কিনলেন। এক্ষেত্রে, আপনি হচ্ছেন বায়ার আর ব্রোকার হচ্ছে সেলার। এখন, আপনার আর ব্রোকারের মধ্যে কমোডিটি বেচাকেনা কি শর্তে হচ্ছে, তা ব্রোকারের "Terms and Conditions" পড়লে বুঝতে পারবেন। বিভিন্ন ব্রোকারের নিয়ম বিভিন্ন রকম।
 
যেমন ধরুন, সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, আপনি কোন কমোডিটি কেনার সময়েই ব্রোকারের সাথে আপনার চুক্তি হয়ে গেল যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট প্রাইসে আপনি কমোডিটি কিনছেন। ধরুন, এই সময়টি তিন মাস। 
 
তাহলে, তিন মাস পরে কি হবে? তিন মাস পরে আপনি ব্রোকারকে পুরো টাকা দিবেন আর ব্রোকার আপনাকে আপনার কমোডিটি দিয়ে দিবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্রোকার এই কমোডিটি কোথা থেকে দিবে? 
 
সহজ উত্তর হচ্ছে, ব্রোকার আরেকজনের থেকে কিনে আপনাকে দিবে। ব্রোকারের কাজই হচ্ছে বাই আর সেল করা। আপনার থেকে যা কিনবে, তা আরেকজনের কাছে বিক্রি করবে, আর আরেকজনের কাছ থেকে যা কিনবে, তা আপনার কাছে বিক্রি করবে। যেহেতু, প্রত্যেকটি ব্রোকারেরই অসংখ্য ক্লায়েন্ট থাকে, তাই ব্রোকার সহজেই আপনার কাছে কমোডিটি বিক্রি করার চুক্তি করলে আরেকজনের কাছ থেকে কমোডিটি কেনার চুক্তি করবে।  
                                                                                                                      
এখন, তিন মাস পরে আপনি যে ব্রোকারকে পুরো টাকা দিবেন, তার নিশ্চয়তা কি? আর ব্রোকার যার থেকে কমোডিটি কিনবে, সেও যে সময়মত কমোডিটি ডেলিভারী করবে, তারও বা নিশ্চয়তা কি? তাই, ব্রোকার উভয়ের থেকেই একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখে। এটা সাধারণত যত টাকার কমোডিটি কিনবেন, তার উপর নির্ভর করে। যেমন, শতকরা ৫%। এটাকেই মার্জিন বলে।                                                           
 
কিন্তু, এই সিকিউরিটি ডিপোজিট বা মার্জিন নেবার পরেও কিন্তু ব্রোকার ঝুঁকিতে আছে। জানতে চান, কিভাবে?
 
ধরুন, প্রতি আউন্স গোল্ড ১০০০ ডলার, এই রেটে আপনি ১ আউন্স গোল্ড কিনলেন ব্রোকার থেকে। শর্ত হচ্ছে, ব্রোকার এই গোল্ড ডেলিভারি দিবে ৩ মাস পরে। এখন, ৩ মাস পরে গোল্ডের দাম যাই থাকুক না কেন, ব্রোকার আপনাকে এই ১ আউন্স গোল্ড ডেলিভারি দিতে বাধ্য, আর আপনি বাধ্য ব্রোকারকে ১০০০ ডলার দিতে। ধরুন, ১ মাস পরে গোল্ডের দাম কমে দাঁড়ালো আউন্স প্রতি ৮০০ ডলারে। অর্থাৎ, আউন্সপ্রতি দাম ২০০ ডলার কমে গিয়েছে।
 
এখন, ১০০০ ডলারের ৫% হিসেবে আপনি মার্জিন বা সিকিউরিটি ডিপোজিট দিয়েছেন মাত্র ৫০ ডলার। চুক্তি করেছেন, বাকিটা গোল্ড ডেলিভারির সময় নিবেন। উন্নত বিশ্বে, এই চুক্তির দাম আছে। একবার চুক্তি করার পরে আপনি গোল্ড এই দামে নিতে বাধ্য। যদি, তিন মাস পরে গোল্ডের দাম কমে আউন্সপ্রতি ৫০০ ডলারও হয়ে যায়, তারপরেও আপনাকে ৫০০ ডলার বেশি দিয়ে হলেও ১০০০ ডলারেই নিতে হবে। ৫০ ডলার গেলে যাক, ব্রোকার থেকে গোল্ড নিবই না। এমনটা ভেবে যে এড়িয়ে যাবেন, তারও কোন উপায় নেই। ব্রোকার টাকা না পেলে মামলা করে দিবে আপনার নামে। আদালতে গেলে আপনি টাকা দিতেই হবে, তা নাহলে জেলে যেতে হবে। 
 
কিন্তু, যদি অনলাইনে এই গোল্ড কেনার চুক্তি করে থাকেন, অনেক দূরের কোন দেশের ব্রোকারের সাথে, তাহলে? ব্রোকার আপনাকে পাবে কোথায়? আপনি তো চাইলেই উধাও হয়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ব্রোকারকে তো ঠিকই এই ১ আউন্স গোল্ডের জন্য কাউকে না কাউকে ১০০০ ডলার দিতে হবে। তখন?
 
ব্রোকারদের বোকা ভাবার কোন কারন নেই। বরং, আমার আপনার থেকে অনেকগুন চালাক লোক আছে ব্রোকারে। তারাও এমন সিস্টেম বের করে রেখেছে যে, ব্রোকার এরকম কোন ঝুঁকিতে পড়বে না। সেটা কিভাবে?
 
সহজ। আপনি যখনই ব্রোকারের সাথে গোল্ড কেনার অর্ডার দিচ্ছেন, তখনই তার মালিক আপনি। সিকিউরিটি ফি বা মার্জিন হিসেবে গোল্ডের পুরো দামের একটি অংশ ব্রোকারকে দিয়েছেন, বাকিটা দিবেন ডেলিভারির পরে। এখন,  যদি গোল্ডের দাম  আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার বাড়ে, তাহলে আপনি যে এক আউন্স গোল্ডের মালিক, তার দাম এখন আর ১০০০ ডলার না, ১১০০ ডলার। ব্রোকারের কাছে চাইলেই আপনি যেকোন সময় এই কেনা গোল্ড আবার বিক্রি করে দিতে পারবেন ডেলিভারির আগেই। সেক্ষেত্রে, ব্রোকার তার ফি কেটে রেখে আপনাকে আপনার লাভ বুঝিয়ে দিবে। অর্থাৎ, আপনার অ্যাকাউন্ট এ ৯৮ ডলার যোগ হয়ে যাবে, সাথে মার্জিন হিসেবে যে টাকা কেটে রাখা হয়েছিল, তাও ফেরত দেয়া হবে। (ধরলাম, ব্রোকারের ফি হচ্ছে আউন্সপ্রতি ২ ডলার, ১০০ ডলার-২ ডলার=৯৮ ডলার)। কিন্তু, ব্রোকারে যে আরেকজনের থেকে আপনার জন্য গোল্ড কেনার কথা? চিন্তার কারন নেই, ব্রোকার আরেকজনের সাথে গোল্ড বেচার চুক্তি করে নিবে বর্তমান প্রাইস অনুসারে। সেক্ষেত্রে, এখন যে ব্রোকার থেকে গোল্ড কিনবে, সে কিনবে প্রতি আউন্স ১১০০ ডলার দরে, আর ব্রোকার তো আগেই ১০০০ ডলার দরে গোল্ড কিনার চুক্তি করে রেখেছে। 
 
আর যদি দাম কমে? ধরুন, প্রতি আউন্স গোল্ডের মূল্য ৫০ ডলার কমে গেলো। আপনি মার্জিন দিয়েছেনও ৫০ ডলার। এখন যদি আরো কমে যায়, তাহলে তো আপনি পরে ওই গোল্ড আর না নিলে ব্রোকার বিপদে পড়বে। তাই, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া থাকে যে এরকম ক্ষেত্রে ব্রোকার সাথে সাথেই বা তারও আগে আপনাকে ইনফর্ম করবে আরো ডিপোজিট দেওয়ার জন্য। এজন্যেই অ্যাকাউন্টে মার্জিন এর বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ রাখতে হয়। ব্রোকার সাথে কমোডিটি কেনার সময়েই আপনি চুক্তি করেছেন যে, কোন কারনে যদি দাম কমে যায় তাহলে আপনি আরো ডিপোজিট মানি দিবেন যাতে কোন অবস্থাতেই আপনার টোটাল ডিপোজিট মানি থেকে টোটাল লস বেশি না হয়। এমনটা হলেই, ব্রোকার সঙ্গে সঙ্গে আপনার জন্য বেশি দামে কেনা গোল্ড আবার বাজারে বাজারমূল্যে (কম দামে) বিক্রি করে দিবে, মানে আপনার ট্রেড ক্লোজ হয়ে যাবে। ব্রোকার তখন হিসাব করবে তার লস কত হল আর আপনি ডিপোজিট মানি মোট কত দিয়েছেন। আপনার দেয়া মোট ডিপোজিট মানি থেকে ব্রোকার তার লস আর ফি কেটে রেখে বাকি টাকা আপনাকে ফেরত দিবে। এখন, ব্রোকারের লস আর ফি মিলিয়ে যদি সর্বমোট ১০০ ডলার হয় আর আপনার দেয়া ডিপোজিট মানিও ১০০ ডলারই হয়, তাহলে আপনি লস+ফি কেটে নেয়ার পরে কিছুই ফেরত পাবেন না। আর যেহেতু ব্রোকার সবসময়েই তার লস আপনার ডিপোজিট মানি থেকে বেশি হবার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে দিবে, তাই ব্রোকারেরও লস হবার সম্ভাবনা নেই। (কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্রোকারও লসের সম্মুক্ষীন হতে পারে, সেটা আরেকদিন আলোচনা করব)
 
কিছু কিছু ব্রোকার কমোডিটির ফিউচার কন্ট্রাকের ডেলিভারির তারিখের দিনে পন্য ডেলিভারি করে দেয় অথবা আপনাকে সুযোগ দেয় পন্য ডেলিভারি না নিয়ে লাভ বা লস যেটা হয়েছে, সেই টাকাটা নিয়ে নিতে। আর অনেক ব্রোকার তাদের ক্লায়েন্টদেরকে পন্য ডেলিভারীর বদলে ওই দিন ওই কমোডিটির যে মূল্য সেই অনুসারে লাভ বা লস বুঝিয়ে দেয়। ক্লায়েন্ট তখন ওই টাকা দিয়ে চাইলেই ওই পরিমান কমোডিটি বাজার থেকে কিনে নিতে পারে। অনলাইন ব্রোকারগুলোর পক্ষে যেহেতু বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদেরকে পন্য ডেলিভারী দেওয়া সম্ভন হয় না, তাই তারা দ্বিতীয় পন্থাতেই কাজ করে। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফিউচার কন্ট্রাক্টের মেয়াদ অনেক দীর্ঘ থাকে। ট্রেডাররা তাদের সুবিধামত তার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে লাভ বা লস বুঝে নেয়। 
 
তাহলে বুঝতে পারলন, ব্রোকারদের মাধ্যমে কিভাবে আমরা কমোডিটি বেচাকেনা করে থাকি। অনেকে জানেন না, আসলে কিভাবে আমরা ফরেক্স ব্রোকারদের সাথে কারেন্সি বেচাকেনা করে থাকি। আশা করি, এখন আপনি দুটোই বুঝতে পারেছেন। কমোডিটি ট্রেড করতে হলে আপনাকে আলাদা করে টেকনিক্যাল বা ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস শিখতে হবে না, এটা ফরেক্স ট্রেডিং এর মতই। তবে, বেশ কিছু বেসিক জিনিস জানা বেশ জরুরী। তা না হলে, আপনি সঠিকভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট করতে সম্যসায় পড়বেন এবং ভুল ট্রেড ওপেন করবেন। এই নিয়েই লিখব পরবর্তীতে। সাথে আরো থাকবে কমোডিটি ট্রেডিং এর বিভিন্ন টিপস।
 

বুধবার

একটি সহজ অথচ কার্যকরী - কৌশল ফরেক্স ট্রেডিং স্ট্রাটেজি

যারা ফরেক্স নিয়ে ট্রেড করতে চান তারা সবাই এমন একটি স্ট্রাটেজি নিয়ে এগিয়ে যান যেটা পরীক্ষিত ও মোটামুটি নিয়মিত মুনাফা প্রদান করে থাকে। এই রকম একটা কৌশল তৈরি করতে একজন ফরেক্স ট্রেডার এর কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে

আমি নিজেও আনেক স্ট্রাটেজি বানিয়েছি ও অন্য অনেকের স্ট্রাটেজি টেস্ট করে দেখেছি কিন্তু সবগুলো ঠিকমত কাজ করে না। একটি স্ট্রাটেজি উপস্থাপন করছি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এটি খুব সহজ কিন্তু কাজ করে।

যা যা লাগবে...

১। EMA 5 ( Applied to close)
২।  EMA 12 ( Applied to close)
৩। RSI 14 ( Level set to 50)
৪। Currency Pair any with low spread.
৫। Chart 15   to 1 hrs.
৬। Risk Reward Ratio 1:2
৭। Money Management not more than 5% of your invested capital.

বাইঃ যখন EMA 5 , EMA 12  কে ক্রস করে উপরে যাবে ও RSI 14 লেভেল 50 ক্রস করে উপরে যাবে।
স্টপ লসঃ আগের ক্যান্ডেল এর নিচে সেট করতে হবে।
টেকপ্রফিটঃ যত পয়েন্ট স্টপলস তার দিগুন।(সংযুক্ত ইমেজগুলো দেখুন। ভালোভাবে বোঝা যাবে)

সেলঃ যখন EMA 12 , EMA 5  কে ক্রস করে নিচে যাবে ও RSI 14 লেভেল 50 ক্রস করে নিচে যাবে।

স্টপ লসঃ আগের ক্যান্ডেল এর উপরে সেট করতে হবে।
টেকপ্রফিটঃ যত পয়েন্ট স্টপলস তার দিগুন। (সংযুক্ত ইমেজগুলো দেখুন। ভালোভাবে বোঝা যাবে)
forex-strategy-1.png

forex-strategy-2.png

সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

বৃহস্পতিবার

Revenge ট্রেডিং কি? এবং কেন আপনার Revenge ট্রেডিং থেকে বিরত থাকা উচিত?

আমার অনেক প্রিয় একটি ইংলিশ মুভি আছে Taken, যেখানে কিছু ড্রাগ ট্রাফিকাররা প্যারিস ঘুরতে যাওয়া একটি মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়, আর তার বাবা অভিনেতা Liam Neeson প্যারিস গিয়ে অপহরণকারীদের খুঁজে বের করে মেরে এর প্রতিশোধ নেয়। প্রতিশোধ সবাই ভালবাসে। কেউ আপনাকে অপমান করলো, কটু কথা বললো, আপনিও সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন কিভাবে তাকে ছোট করা যায়। কেউ আপনাকে জনসম্মুখে একটি থাপ্পড় মারলো, আপনিও তাকে আরও বেশি মেরে প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়বেন। প্রতিশোধ বা Revenge নেয়া আমাদের একটি আদিম স্বভাব। সব মানুষের মধ্যেই কম-বেশি প্রতিশোধ নেয়ার প্রবৃত্তি কাজ করে। আর ফরেক্স ট্রেডিং করতে গেলেও এ প্রতিশোধ নেয়ার প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হতে পারে না বেশিরভাগ ট্রেডার। 


Revenge Trading কি?

ধরুন কখনও ট্রেড করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবসত বেশি রিস্ক নিয়ে বড় ধরনের লস করে ফেলেছেন। তখন কি মনে হয় আপনার? আমাদের মধ্যে প্রবল ইচ্ছা এবং তাড়া কাজ করে যে এখনই এবং আজই এই লস আমাকে রিকভার করতে হবে। আমরা যখন লস করি তখন লাভে ফিরে যাওয়ার জন্য ২টি ঘটনা ঘটেঃ
  • প্রথমে যে পরিমান লস হয়েছে তা রিকভার করতে হয়
  • তারপর আবার স্বাভাবিকভাবে ট্রেড করে লাভে যেতে হয়
কিন্তু আমরা ট্রেডাররা যখন লসে পড়ে যাই, তখনই আসল ভুল করে বসি। আমরা খুব দ্রুত লস কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করি। আপনি যখন খুব দ্রুত লস কাটিয়ে সরাসরি আবার লাভে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, তখন আপনার সামনে ১টিই পথ খোলা থাকে, আর তা হল রিস্কের পরিমান বাড়িয়ে ট্রেড করা। যখন আপনি আপনার প্ল্যান করা রিস্ক থেকে অতিরিক্ত রিস্ক নিয়ে ট্রেড করতে যাবেন, তখন আরও ২টি ঘটনা ঘটবেঃ 
  • আপনি পূর্বের সকল লস কাটিয়ে আবার লাভে ফিরে যাবেন
  • আপনি বেশি পরিমান লস করে অ্যাকাউন্টের ১২টা বাজিয়ে দিবেন

তাহলে লস কাটিয়ে ওঠার উপায় কি?

ট্রেড করতে গিয়ে বহুবার আমাকে Revenge Trading এর বলির শিকার হতে হয়েছে। যতবারই আমি আমার ট্রেডিং প্ল্যান থেকে সরে এসে বেশি রিস্ক নিয়ে আগ্রাসিভাবে লস রিকভার করার চেষ্টা করেছি, বেশিরভাগবারই হিতে বিপরীত হয়ে উল্টো লস করেছি। বারবার লস করে অবশেষে প্রতিটি ট্রেডারই বুঝতে পারে লস থেকে লাভে যাওয়ার উপায়টি আমরা আসলে যেভাবে ভাবি, তার থেকে ভিন্ন।


আপনি কখনও বেশি পরিমান লস করলে, মাথা গরম না করে প্রথমে পরিকল্পনা করতে হবে কিভাবে সেই লস দ্রুত নয়, আস্তে আস্তে রিকভার করা যায়। ভুলেও কখনোই আবেগের বসে বেশি রিস্ক নেবেন না। দ্রুত লস রিকভার করতে গিয়ে যদি আপনি বেশি রিস্ক নিয়ে অ্যাকাউন্টটাই শুন্য করে ফেলেন, তবে আর ট্রেড করা হবে না। তাই সময় লাগলেও ধীরভাবে প্রথমে পর্যায়ক্রমে লস কাটিয়ে উঠুন, তারপর আবার লাভের চেষ্টা করুন। ম্যাজিকালি ধুপধাপ বেশি লাভ করতে গেলেই দেখবেন উল্টো লস আরও বাড়বে। ফরেক্সের এই বিষয়গুলো প্রায় সব ট্রেডারই জানেন, কিন্তু মেনে চলতে পারেন খুব কম ট্রেডারই। ফরেক্স দ্রুত বড়লোক হওয়ার কোন ব্যবসা নয়। তাই ধৈর্য সহকারে ট্রেড করুন, তাহলেই শুধুমাত্র লং টার্মে লাভ করা সম্ভব।


তাহলে কি Revenge নেবো না?

আপনি যখন লস কাটিয়ে আবার লাভে ফিরে যাবেন, তখনই মার্কেটের সাথে আপনার Revenge বা প্রতিশোধ নেয়া হয়ে যাবে। একটি জনপ্রিয় প্রবাদ রয়েছে, Revenge is a dish best served cold. তাড়াহুড়া করে মার্কেটের সাথে Revenge নিতে গেলেই বিপদ। আপনার লস খাওয়ার ঘটনা ঘটবে, যথেষ্ট সময় পার হবে যার মধ্যে আপনি পরিকল্পনামাফিক ট্রেড করে লস কাটিয়ে উঠবেন, তারপর লাভ করবেন, তবেই না Revenge নেয়া হবে সফলভাবে। 

শুক্রবার

আজ NFP. প্রত্যাশিত যে ৫টি প্রভাব পড়তে পারে EURUSD তে

মাস ঘুরে আবার এলো প্রথম শুক্রবার, আর সাথে আসছে নতুন NFP তথা নন ফার্ম পে-রোল নিউজ। নামে ননফার্ম হলেও শুধু কৃষি নয়, সাথে সরকারি কর্মচারী, পরিবারের ব্যক্তিগত কর্মচারী আর অলাভজনক প্রতিস্থানগুলোর কর্মচারীদের বাদ দিয়ে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার প্রকাশ করে পূর্ববর্তী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সংখ্যা কি আগের থেকে বাড়লো না কমলো। শুধু তাই না, বাড়লে কয়টি বাড়লো, আর কমলেও কয়টি কমলো সে সংখ্যাটাও। যেহেতু, কৃষি খাতকে বাদ দিয়েই এই হিসাবটা করা হয়, তাই এর নাম হয়েছে ননফার্ম পেরোল।
 
NFP-Euro-usd-news

 আজ সন্ধ্যা ৬:৩০ এ প্রকাশিত হবে NFP ডাটা। বেশিরভাগ ট্রেডারই এই নিউজ রিলিজটি নিয়ে অনেক আগ্রহী থাকেন, কারণ এই নিউজটি অধিকাংশ সময় মার্কেটকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দেয়। এই নিউজটি ট্রেড করতে হলে মুলত আপনাকে ২টি বিষয় সম্পর্কে খেয়াল রাখতে হবে। আর তা হল গত মাসে এনএফপি রিপোর্ট রিলিজ কি হয়েছিল, এবং এবার কি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
গতবার কি হয়েছিল?
 
ফেব্রুয়ারি মাসের এনএফপি রিপোর্টে ১৯৫,০০০ নতুন জব বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে ২৪২,০০০ নতুন জব তৈরি হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। 
 
এবার কি হতে পারে?
 
এমনিতেই ফেড চেয়ারপ্রধান জ্যানেট ইয়েলেনের ডোভিশ বক্তব্যে ডলারকে কিছুটা দুর্বল করেছে যার সুযোগ নিয়েছে EUR/USD. এপ্রিল মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তিনি প্রায় নাকচ করে দিয়েছেন। এবারের এনএফপি শক্তিশালী আসতে পারে, তবে তা EUR/USD এর ওপর দৃঢ় প্রভাব নাও ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন এবার এনএফপির ফলাফল কিছুটা কম ২০৬,০০০ আসতে পারে। 
 
বর্তমানে ইউরোডলারের গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল লেভেলগুলো হলঃ ১.১২২০, ১.১৩, ১.১৩৭৩, ১.১৪৬০ এবং ১.১৫.
 
চলুন জেনে নেয়া যাক বিশেষজ্ঞদের মতে এফ.এফ.পির ফলাফল কিরকম আসলে মার্কেটে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারেঃ
 
প্রত্যাশার মধ্যেঃ ফলাফল ২০১,০০০ থেকে ২১১,০০০ এর মধ্যে যদি থাকে তবে ধরে যায় ফলাফল প্রত্যাশা মোতাবেকই এসেছে। EURUSD কিছুটা ওপরের বাড়তে পারে, কিন্তু পরবর্তী রেসিস্ট্যান্স লেভেল ভেঙ্গে ওঠার সুযোগ কম।
 
প্রত্যাশার বেশিঃ ২১২,০০০ থেকে ২১৭,০০০ ফলাফল আসলে তা প্রত্যাশার থেকে বেশি বলেই ধরে নেয়া হবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে EURUSD নিকটস্থ সাপোর্ট লেভেল ব্রেক করে নিচে নামতে পারে। 
 
প্রত্যাশার অনেক বেশিঃ ২১৭,০০০ এর বেশি যদি এন.এফ.পির ফলাফল এবার আসে, তবে তা হবে প্রত্যাশার থেকে অনেক বেশি, যা কিনা নিকটস্থ ২টি সাপোর্ট লেভেল ভেঙ্গে EURUSD কে বেশ কিছুটা নিচে নিয়ে যেতে পারে। 
 
প্রত্যাশার কমঃ ১৯৫,০০০ থেকে ২০০,০০০ এর মধ্যে যদি থাকে তবে প্রত্যাশার থেকে কম এসেছে বলে ধরে নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে EURUSD নিকটস্থ একটি রেসিসট্যান্স লেভেল ব্রেক করে ওপরে বাড়তে পারে। 
 
প্রত্যাশার অনেক কমঃ ১৯৫,০০০ এর কম যদি আসে, তবে তা প্রত্যাশার থেকে অনেক কম বলে ধরে নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে ডলার দুর্বল হতে পারে এবং তা EURUSD পেয়ারটির নিকটস্থ ২টি রেসিসট্যান্স লেভেল ভাঙ্গতে পারে।
 
এছাড়া সন্ধ্যা ৬:৩০ এ আরও প্রকাশিত হবে আনএমপ্লয়মেন্ট রেট বা জবলেস রেট ডাটা। গতবারের মতই ৪.৯% তেই বেকারত্বের হার অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
 
নিউজ বা ডাটা রিলিজ মার্কেটের ওপর প্রচন্ড প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র নিউজের ফলাফল দেখেই ট্রেড না করে, নিউজের প্রভাব কেমন হচ্ছে তা বুঝে ট্রেড করুন।

বুধবার

কখন আপনার নিউজটি ট্রেড করা উচিত, এবং কখন নয় - Forex News

প্রায়শই মার্কেটে বড় বড় হাই ইম্প্যাক্ট নিউজ থাকে। বেশিরভাগ ট্রেডারের অ্যাকাউন্ট শূন্য করার পেছনে এই নিউজগুলো দায়ী। স্বভাবতই আমরা লোভী ট্রেডার। তাই মার্কেট বেশি মুভ করবে, আর আমরা সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো না, ব্যাপারটাকে আমাদের অনেকের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। কিন্তু নিউজ ট্রেডিংগুলো কেমন জানি আজব ধরণের। কখনও দেখা যায় প্রত্যাশিত দিকে অনেক বেশি প্রাইস মুভ করে। আবার কখনও দেখা যায় ফলাফল প্রত্যাশিত হলেও প্রাইস চলে গেছে একদম বিপরীত দিকে। এসব ঝামেলায় পড়ে অনেকেই নিউজ ট্রেডিং ছেড়ে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের দিকে নজর দেয়।


Dvn0pG4.png


আপনি যদি শর্ট টার্ম ট্রেডার হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই নিউজের ব্যাপারে আপনার সতর্ক থাকা উচিত। কারণ এই নিউজগুলো আপনার ট্রেডে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। হাই ইম্প্যাক্ট নিউজগুলো অল্প সময়ে মার্কেটে বড় ধরণের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। নিউজের দিকে খেয়াল রাখবেন বলেই যে আপনাকে নিউজ ট্রেডার হতে হবে তা নয়। কারণ হাই ইম্প্যাক্ট নিউজ থাকলে এবং আপনি সে বিষয়ে সচেতন না থাকলে আপনার ট্রেড ব্যাপক পরিমাণ লাভ বা লসে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই লেখাটি তাদের জন্য না। যারা নিউজ ট্রেড করতে আগ্রহী, কিন্তু কখন নিউজ ট্রেড করতে হবে, এবং কখন করতে হবে না, সেসব বিষয় নিয়ে যারা চিন্তিত, এই লেখাটি তাদের জন্য।

বেশিরভাগ সময় যা হয়, আমরা ForexFactory তে নিউজের Usual Effect দেখি এবং ফলাফল বের হলে সেই অনুযায়ী ট্রেড করি। উদাহরণসরুপঃ

NFP নিউজের Usual Effect হল Actual > Forecast = Good For Currency

ধরা হচ্ছে এবার ফলাফল আসতে পারে ১৬১০০০ (161K), এটাই হল Forecast। এখন Forecast থেকে যদি আসল ফলাফলের মান বেশি হয়, অর্থাৎ ১৬১০০০ (161K) থেকে বেশি আসলেই তা ডলারকে শক্তিশালী করবে। ধরুন মান আসলো ১৯৫০০০ (195K). তবে কি বুঝলেন? ডলার শক্তিশালী হয়ে গেছে? তাই হওয়ার কথা নিউজের সূত্র অনুযায়ী। নিউজটি ডলারের জন্য ভালো এসেছে। কিন্তু তাই বলেই যে ডলার শক্তিশালী হয়ে যাবে বা পেয়ারে প্রভাব পড়বে তা নয়। আরও অনেক ধরণের ব্যাপার এখানে কাজ করে। অন্য গুরুত্বপূর্ণ নিউজের প্রভাবে অনেক সময় অন্য নিউজ তার প্রভাব হারায়। এছাড়া রাজনৈতিক, দুর্যোগ এসব কারণ তো রয়েছেই। তাই শুধুমাত্র ফলাফল দেখেই ট্রেডে ঝাপিয়ে পড়া ঠিক নয়। তাতে ভুল ট্রেডের সম্ভাবনাই থাকে বেশি। 

bdpips_1406111250__news.jpg


বেশিরভাগ অভিজ্ঞ ট্রেডারদের মতে এ ধরণের নিউজের ক্ষেত্রে ১০ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। এই ধরণের হাই ইম্প্যাক্ট নিউজের প্রভাব হয় সাধারনত ৬০-৯০ মিনিট। তাই ৫ মিনিটের চার্ট ওপেন করে প্রথম ২টি ক্যান্ডেল ক্লোজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যদি মনে হয় নিউজের প্রভাব অনুসারে মার্কেটের যেদিকে যাওয়ার কথা, প্রাইস পরিষ্কারভাবে সেদিকে যাচ্ছে, তবেই ট্রেড নিন। আর যদি মনে হয় নিউজের ফলাফল বলছে এক কথা, কিন্তু ক্যান্ডেলের মুভমেন্ট অন্য কথা বলছে, তবে সেক্ষেত্রে ট্রেড না নেয়াই উত্তম। যেমন ১ নম্বর চার্টে বুল্লিশ মুভমেন্ট পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে ৫ মিনিটের প্রথম ২টি ক্যানডেল দেখে। তাই এই ক্ষেত্রে ট্রেড নেয়া যেতে পারে। কিন্তু ২য় চার্টে ৫ মিনিটের প্রথম ২টি ক্যানডেল পরিষ্কারভাবে কিছু নির্দেশ করছে না। তাই এ ধরণের ট্রেড না নেয়াই ভালো। এ ধরণের ট্রেডে লসের সুযোগ থাকে বেশি। এতে হয়তো আপনি প্রথম ১০ মিনিটের মুভমেন্ট মিস করলেন, কিন্তু এভাবে আপনি ভুল ট্রেড সহজেই এরিয়ে যেতে পারবেন। 

১৭ তারিখেই ঘটতে যাচ্ছে আরেকটি বড় মার্কেট মুভমেন্ট - সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে ফেড - Forex News Events

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের পরপরই রাতে প্রস্তুত থাকুন ১৭ই ডিসেম্বর এর জন্য। কেননা, ঘড়ির কাটা রাত ১২ টা পার করার এক ঘন্টা পরই, অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত ১ টাতেই যে সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড। আর তাই, ৩ ই ডিসেম্বরের  মত আরেকটি বড় মার্কেট মুভমেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রেডাররা। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে আবার ৩ই ডিসেম্বরের মোট অপ্রত্যাশিত কিছু হবে কি? 
 
সবচেয়ে ঘোর ইউরো সমর্থকও হয়ত আশা করেননি যে, ইসিবি সুদের হার কমানোর পরেও EUR/USD শক্তিশালী হবে এবং এতটা শক্তিশালী হবে। যদিও EUR/USD এতটা শক্তিশালী হওয়ার পড়ে অনেক বিশ্লেষকই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যে ট্রেডাররা সুদের হার আরও বেশি কমানো হবে বলে প্রত্যাশা করেছিল এবং তা না হওয়ায় EUR/USD দুর্বল হয়েছে। কিন্তু, এরকম যুক্তি নিউজের আগে না এসে পরে দেওয়ায় তা ধোপে টিকছে না। তবে মারিও দ্রাঘি নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মার্কেট তার বক্তব্য বুঝতে ভুল করেছে।
 
ইসিবি সুদের হার কমানোর পরেও EUR/USD ৫০০ পিপসেরও বেশি শক্তিশালী হওয়ায় এবং সম্প্রতি ১.১০ ব্যারিয়ারও ভেঙ্গে ফেলায়, প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ট্রেডাররা। ১৬ ডিসেম্বরও কি এরকম অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে? আপাত দৃষ্টিতে সুদের হার বাড়ানোর ফলে EUR/USD র নিশ্চিত ১০০-৩০০ পিপস দুর্বল হওয়ার কথা থাকলেও  ৩ ডিসেম্বরের মোট অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেননা সুদের হার বৃদ্ধি প্রত্যাশিত, অপ্রত্যাশিত নয়। 
 
forex-news-events.jpg
 
১৭ই ডিসেম্বর কি ঘটতে যাচ্ছে?
 
১৬ই ডিসেম্বরই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারের রিজার্ভ ওপেন কমিটি বা FOMC । মূল এজেন্ডা হল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার ঘোষণা করা। দীর্ঘদিন ধরেই সুদের হার মাত্র ০.২৫ শতাংশে নামিয়ে রাখা হয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবার সুদের হার বাড়িয়ে ০.৫০ শতাংশ করা হবে।
 
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঠিক আট বছর আগেই ফেড সুদের হার কমিয়ে ০.২৫ শতাংশে নিয়ে আসে। সেবারও কিন্তু প্রত্যাশা করা হচ্ছিল যে সুদের হার কমানো হবে। তবে, প্রত্যাশা ছিল সুদের হার শতকরা ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু, সবাইকে চমকে দিয়ে একেবারেই ০.২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে ফেড। যার ফলশ্রুতিতে ব্যাপকভাবে দুর্বল হয় ডলার ও শক্তিশালী হয় EUR/USD.
 
যেহেতু, সুদের নতুন হার ০.৫০ শতাংশ প্রত্যাশিতই, তাই যদি ফেড সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশে বা ১ শতাংশে নিয়ে আসে, তাহলে তা EUR/USD কে কমপক্ষে ২০০-৩০০ পিপস দুর্বল করবে। 
 
আর যদি ফেড সুদের হার প্রত্যাশামতই বাড়িয়ে ০.৫% করে, তাহলে তা অর্থনীতির সাধারণ নীতি অনুসারে EUR/USD কে দুর্বল করার কথা থাকলেও EUR/USD দুর্বল বা শক্তিশালী, দুটোই হতে পারে। সেক্ষেত্রে, মার্কেটে বড় ধরনের স্পাইক হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। 
 
আর যদি ফেড সুদের হার নাই বাড়ায় এবং FOMC স্টেটমেন্টেও অতি দ্রুতই সুদের হার না বাড়ানোর কোন জোরালো ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে ডলার দুর্বল হয়ে EUR/USD আরও ২০০-৩০০ পিপস শক্তিশালী হতে পারে।
 
তবে যাই ঘটুকনা কেন, মার্কেটে যে বড় মুভমেন্ট ঘটতে যাচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। 
 
১৭ই ডিসেম্বরের আরও আপডেটের জন্য FXBD এর সাথেই থাকুন। 
 
Copyright © 2014 Forex Bangladesh - FXBD - Learn Forex in Bangla & Technical Analysis. Designed by OddThemes
Copyright © 2014 Forex Bangladesh - FXBD - Learn Forex in Bangla & Technical Analysis. Designed by FXBD